সাম্প্রতিক দর্পণ: নিউ আটলান্টিক সনদ

সাম্প্রতিক ঘটনাবলী
Content Protection by DMCA.com

সাম্প্রতিক দর্পণ

সাম্প্রতিক দর্পণ: নিউ আটলান্টিক সনদ

New Atlantic Charter – নিউ আটলান্টিক সনদ

গ্রহণকারী: জো বাইডেন (আমেরিকা) ও বরিস জনসন (যুক্তরাজ্য)

সম্মত: বাইডেনের প্রথম বিদেশ সফর যুক্তরাজ্যে (১০ জুন ২০২১)।

নতুন আটলান্টিক সনদের বিষয়বস্তুঃ

১. জলবায়ু পরিবর্তন
২. নিরাপত্তা
৩. বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থা
৪. গণতন্ত্র রক্ষা
৫. ট্রান্স আটলান্টিক ভ্রমণ নিরাপদে শুরু করার প্রচেষ্টা

আটলান্টিক সনদঃ গ্রহণ: ১৯৪১ সালে

যারা করেছেনঃ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী উইনস্টোন চার্চিল ও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ফ্রাংকলিন ডি রোজভেল্ট ১৯৪১ সালে আটলান্টিক সনদ গ্রহণ করেছিলেন।

প্রাপ্তিযোগঃ জাতিসংঘের বীজ বপন করা হয়।

মূলনীতিঃ ৮টি মূলনীতি ছিলো।

আটলান্টিক সনদ [Atlantic charter]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়েই বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সম্মিলিত জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছিল । ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়সীমাকে সম্মিলিত জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতিপর্ব হিসেবে গণ্য করা যায় । এই সময়কার আন্তর্জাতিক ঘটনাপুঞ্জের নানা ঘাতপ্রতিঘাতের বিবর্তনের মধ্য দিয়েই সম্মিলিত জাতিসংঘ উত্পত্তি হয়েছে ।

১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের ৯ই আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল আমেরিকার নিউফাউন্ডল্যান্ড দ্বীপের কাছে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ‘প্রিন্স অফ ওয়েলস’ নামে একটি যুদ্ধজাহাজে পৃথিবীতে স্থায়ী শান্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যেএকটি আটদফা সুত্র সম্বলিত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ।

এই চুক্তিটি আটলান্টিক সনদ (‘Atlantic charter’ 1941 ) নামে পরিচিত । এই সনদে যুদ্ধ নীতি পরিত্যাগ করে পৃথিবীতে স্থায়ী শান্তি এবং সংঘর্ষ এড়িয়ে পারস্পরিক আলাপ আলোচনা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সকল আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতির কথা ব্যক্ত হয় ।

☼ আটলান্টিক সনদের গুরুত্ব:-

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্বে শান্তি প্রক্রিয়া ও বিশ্ব মানবের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার সুদৃঢ় করতে আটলান্টিক সনদ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ও এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ । ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে ‘লন্ডন ঘোষণা’ -র পর এই সনদ প্রথম পৃথিবীর মানুষকে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ গঠনের স্বপ্ন দেখিয়েছিল ।

এই সনদে বলা হয়েছিলঃ

(১) কোনো দেশ বা জাতি ভবিষ্যতে বিস্তার বা সম্প্রসারণ নীতি গ্রহণ করবে না ।
(২) কোনো স্বনির্ভর জাতি তার জনগণের ইচ্ছা অনুসারে স্বাধীন সরকার গঠন করতে পারবে ।
(৩) প্রতিবেশী দেশের সম্মতি ছাড়া কোনো দেশের সীমারেখা চিহ্নিত করা যাবে না ।
(৪) বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রের সমান বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক অধিকার থাকবে ।

(৫) নাত্সী ও ফ্যাসিস্ট শক্তির পতনের পর প্রতিটি দেশ নিজেদের উন্নতির জন্য দারিদ্র দূরীকরণ ও বিদেশি আক্রমণ মোকাবিলার জন্য কাজ করবে ।
(৬) প্রতিটি দেশ উন্নত জীবনযাত্রা ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রয়োজনে কাজ করবে ।
(৭) প্রতিটি দেশ সৈন্য, যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও যুদ্ধের অন্যান্য উপকরণ কমাবে ।
(৮) সমুদ্রপথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিটি দেশের সুযোগ থাকবে ।

পৃথিবীর মোট ২৬টি দেশ এই আটলান্টিক সনদকে সমর্থন করেছিল ।

নিউ আটলান্টিক সনদ ছাড়া আরোও পড়ুন-

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন। আমাদের সাইট থেকে কপি হয়না তাই পোস্টটি শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে রাখতে পারেন।