যুদ্ধবিরতি সম্পর্কিত তথ্য

20
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
Content Protection by DMCA.com

যুদ্ধবিরতি সম্পর্কিত তথ্য
যুদ্ধবিরতি মানে কি
লেখকঃ S M Atiq

একটা জিনিস বুঝলাম শিক্ষার্থীরা এখন আগের চাইতে অনেক বেশি পড়াশোনা করে। তাদের জানার আগ্রহও বেড়েছে। নতুন নতুন অনেক কিছু তারা জানতে চায়। এক শিক্ষার্থী প্রশ্ন করেছে- হামাস-ইসরায়েলের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি সেটা truce নাকি ceasefire?

আমার কাছে মনে হয় এমন প্রশ্ন নাঈম ভাইকেও সেই একই শিক্ষার্থী করেছে বা অন্য কেউ করেছে। নাঈম ভাইও একটি চমৎকার পোস্ট দিয়েছেন এই বিষয়ে। তারপরেও আমার ইচ্ছা হলো- এই বিষয়ে লিখতে। কারণ- যখন যে ইস্যু সামনে আসে সেটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনে নানান প্রশ্ন জন্ম দেয়।

প্রথম কথা হচ্ছে, সংবাদপত্রে শিরোনাম দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো শব্দের লিগ্যাল স্ট্যাটাস সবসময় মান্য করা হয় না। তাই সংবাদপত্রের শিরোনাম থেকে শব্দের লিগ্যাল স্ট্যাটাস সঠিকভাবে জানাও যায় না। যেমন ইসরায়েল-হামাসের ক্ষেত্রে রয়টার্স TRUCE বলেছে কিন্তু আলজাজিরা লিখছে CEASEFIRE।

শুনুন যুদ্ধের পরিসমাপ্তির চুক্তি সংক্রান্ত অনেকগুলো পরিভাষা আছে। যেমন-

Truce
cessation of hostilities
Cease-Fire
Armistice
capitulation
peace treaty

এর মধ্যে Truce, cessation of hostilities, Cease-Fire ফলাফল বা আইনগত ভিত্তি প্রায় একই হওয়ায় এগুলোকে একে অপরের প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যদিও প্রক্রিয়াগত কিছু পার্থক্য আছে। আমিও শিক্ষার্থীদেরকে বলবো, এই তিনটিকে একই হিসেবে বিবেচনা করতে আর যার বাংলা অর্থ যুদ্ধবিরতি।

অন্যদিকে Armistice কিছুটা আলাদা। আর capitulation হচ্ছে আত্মসমর্পণ। peace treaty হচ্ছে সর্বশেষ চূড়ান্ত যুক্তি। যাতে করে ভবিষ্যতেও আর যুদ্ধ না হয় সেই জন্য peace treaty করা হয়। আমি এই পোস্টে প্রত্যেকটা বিষয়কেই ব্যাখ্যা করবো। যারা ভাইভার শিক্ষার্থী তারা অধিক মনোযোগ দিবেন এই পোস্টে।

Truce: এর অর্থ হলো অনানুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ থেমে যাওয়া। এটা স্থানীয়ভাবে আয়োজিত হয়। শত্রুপক্ষের কমান্ডাররা একে অপরকে সাদাপতাকা প্রদর্শন করলেই Truce হয়। এক্ষেত্রে কোনো ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় না। Truce মানে এই নয় যে, দীর্ঘ শান্তি প্রক্রিয়ার দিকে যাওয়া হচ্ছে।

cessation of hostilities: এটি দ্বারাও যুদ্ধ থেমে যায়। এটি Truce এর চাইতে অধিক আনুষ্ঠানিক। এখানে শুধু সাদা পতাকা প্রদর্শন করলে চলে না উভয়পক্ষের কমান্ডার থেকে ঘোষণা আসতে হয় যে তারা যুদ্ধ করছেন না। তবে Truce এর মতো এটাও নন-বাইন্ডিং। মানে যেকোনো সময় কমান্ডাররা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে যুদ্ধে ফের জড়াতে পারে। তবে Truce এর সাথে cessation of hostilities এর পার্থক্য হচ্ছে, cessation of hostilities এর ক্ষেত্রে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার ইঙ্গিত থাকে যা Truce এ থাকে।

Cease-Fire: আগের দুটোর মতোই এটা। তবে পার্থক্য হলো এক্ষেত্রে উভয়পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে সীমান্ত থেকে সৈন্য প্রত্যাহার, ভারী অস্ত্র সরিয়ে নেয়া এইসব শর্ত থাকে। অনেকক্ষেত্রে উভয়পক্ষকে সীমান্ত থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে green line বা demilitarized zone প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে Cease-Fireও ক্ষণস্থায়ী। যেকোনো সময়ই ফের যুদ্ধ বাঁধতে পারে। আর সেকারণেই Truce, cessation of hostilities, Cease-Fire এগুলো এক করে দেখা হয়। তিনটিরই বাংলা যুদ্ধবিরতি যা আগেই বলেছি।

উদাহরণ: প্রথম পাক-ভারত যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৪৯ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত করাচি চুক্তিএকটি Cease-Fire। চুক্তিটির নাম AGREEMENT BETWEEN MILITARY REPRESENTATIVES OF INDIA AND PAKISTAN REGARDING THE ESTABLISHMENT OF CEASE-FIRE LINE IN THE STATE OF JAMMU AND KASHMIR. সম্পূর্ণ চুক্তির লিংক সোর্স-১ এ।

Armistice: এই শব্দটি এসেছে দুইটি লাতিন শব্দ arma এবং stitium থেকে। arma অর্থ “arms” এবং stitium অর্থ “a stopping”। আমরা বাংলা করতে পারি অস্ত্রবিরতি। অস্ত্র যদি থামিয়ে দেয়া হয় তাহলে কিন্তু যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। তার মানে Armistice যুদ্ধ বন্ধের আনুষ্ঠানিক চুক্তি। এই চুক্তির মধ্য দিয়ে যুদ্ধ বন্ধ হয় কিন্তু স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় না। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন শান্তি চুক্তি।

উদাহরণ: ১৯৫৩ সালে কোরিও যুদ্ধের অবসান ঘটে Armistice চুক্তির মধ্য দিয়ে। কিন্তু এরপর দুই দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তি হয় নি বিধায় এখন অস্থিরতা বিরাজ করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে ১৯১৮ সালের ১১তম মাসের ১১তম দিনে Armistice চুক্তির মধ্য দিয়ে। চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় ফ্রান্সে। এর মধ্য দিয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয় তবে চূড়ান্ত শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯১৯ সালের ভার্সাই চুক্তির মধ্য দিয়ে। সুতরাং ভার্সাই চুক্তি একটি শান্তি চুক্তি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির চুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে যেতে পারেন সোর্স-২ তে।

peace treaty: শান্তি চুক্তি। এই চুক্তি বিবদমানের সরকারগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়। ভবিষ্যতে যুদ্ধ আর হবে না এমন ইঙ্গিত বহন করে এই চুক্তি। এই যুক্তিতে সীমানাসহ বিরোধের ইস্যুগুলোর নিষ্পত্তি করা হয়। উদাহরণ আগেই বলেছি, ১৯১৯ সালের ভার্সাই চুক্তি।

capitulation: এটি হচ্ছে আত্মসমর্পণ চুক্তি ( Instrument of Surrender)। যেমন ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ। এর মধ্য দিয়েও যুদ্ধ থেমে যায় তবে capitulation শান্তি চুক্তি নয়। তাই ভবিষ্যত বিরোধ এড়ানোর জন্য capitulation এর পরও শান্তি চুক্তি করতে হয়। তদরূপ একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৯৭২ সালের ২ জুলাই যার নাম সিমলা চুক্তি। ৩ নং সোর্সে সিমলা চুক্তির পুরো টেক্সট আছে।

১. https://bit.ly/3oVjXsQ
২. https://bit.ly/2SyV5Lg
৩. https://bit.ly/3oWH1aF
৪. https://nyti.ms/3wExwja
(রেফারেন্সগুলো অত্যন্ত শক্ত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নিউইয়র্ক টাইমস ও হিস্টি ডট কম অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য সোর্স)

যুদ্ধবিরতি সম্পর্কিত তথ্য ছাড়া আরোও পড়ুন-

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন। আমাদের সাইট থেকে কপি হয়না তাই পোস্টটি শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে রাখতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here