বিসিএস লিখিত প্রস্তুতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও ভূ রাজনৈতির গুরুত্ব আলোচনা

পেপার ক্লিপিং
Content Protection by DMCA.com

বিসিএস লিখিত প্রস্তুতি
পেপার কাটিং
ফোকাস রাইটিং
৪১তম বিসিএস লিখিত প্রস্তুতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও ভূ রাজনৈতির গুরুত্ব আলোচনা

𝐆𝐥𝐨𝐛𝐚𝐥𝐢𝐳𝐚𝐭𝐢𝐨𝐧(বিশ্বায়ন)-এর যুগে কোনো জাতিই বিচ্ছিন্নভাবে থাকতে পারে না। প্রত্যেক রাষ্ট্রেরই স্বার্থজনিত কারনে একে অপরের সাথে সু-সম্পর্ক রাখতে মরিয়া । সাধারণত, পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা হয়। এ নীতি হচ্ছে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যে ও উদ্দেশ্য সাধনের জন্য অবলম্বিত কিছু কার্যক্রম যা রাষ্ট্রকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিতে সাহায্য করে।

ইউকিপিডিয়ার মতে ডিপ্লোমেসি বলতে বুঝায়,
𝑫𝒊𝒑𝒍𝒐𝒎𝒂𝒄𝒚 𝒊𝒔 𝒕𝒉𝒆 𝒂𝒓𝒕 𝒂𝒏𝒅 𝒔𝒄𝒊𝒆𝒏𝒄𝒆 𝒐𝒇 𝒎𝒂𝒊𝒏𝒕𝒂𝒊𝒏𝒊𝒏𝒈 𝒑𝒆𝒂𝒄𝒆𝒇𝒖𝒍 𝒓𝒆𝒍𝒂𝒕𝒊𝒐𝒏𝒔𝒉𝒊𝒑𝒔 𝒃𝒆𝒕𝒘𝒆𝒆𝒏 𝒏𝒂𝒕𝒊𝒐𝒏𝒔, 𝒈𝒓𝒐𝒖𝒑𝒔, 𝒐𝒓 𝒊𝒏𝒅𝒊𝒗𝒊𝒅𝒖𝒂𝒍𝒔…

অর্থাৎ দুটি গোষ্ঠী বা জাতির মধ্যে এমনকি ব্যক্তিকেন্দ্রীক প্রেক্ষাপটেও কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশ সংবিধানের আলোকে পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে নিম্নবর্ণিত বর্ণনা করা হয়েছে ;

রাষ্ট্র তার সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি সম্মান বজায় রেখে, অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়সমূহে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধার উপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে-

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগ না করা এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য সংগ্রাম করা;
প্রতিটি মানুষের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং তার নিজের পছন্দ অনুযায়ী নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলাকে সমর্থন করা;

এবং সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতা বা জাতিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত সারা বিশ্বের সকল নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

একটি রাষ্ট্রের জাতীয় নীতি দুই প্রকার
ক. অভ্যন্তরীণ নীতি (Internal Policy)
খ. বৈদেশিক নীতি(External Policy)

সাধারণভাবে অন্য রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কযুক্ত বৈদেশিক নীতিকেই পররাষ্ট্রনীতি বলে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ক্ষমতাসীন দল দ্বারা প্রভাবিত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে ও পাশের ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নির্ভর করে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন এমনকি পাকিস্তানের সাথে এই দু’টি দেশের সম্পর্কের ওপর।

এই প্রেক্ষিতে ১৯৭২ এর পররাষ্ট্রনীতি এবং ২০১০ সালের পররাষ্ট্রনীতির একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো : বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভূ-রাজনৈতিক ভিত্তি

১.অবস্থান (Location) :
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অস্থিত। পাশের দেশগুলো থেকে দূরত্ব সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এই দেশটিকে সমগ্র দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিশেষ স্থান দিয়েছে।

২.অবস্থানের সামরিক গুরুত্ব (Military importance of location):
বাংলাদেশের সব দিক ভারত দ্বারা বেষ্টিত। নিঃসন্দেহে এটা একটা দুর্বলতা। অবস্থানের দিক থেকে বাংলাদেশ নাজুক হলেও এর সামরিক গুরুত্ব অপরিসীম, বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা অতিক্রম করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য দিয়ে ৯০ ডিগ্রি পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখা অতিক্রম করেছে।

বাংলাদেশ আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন করলে আশপাশের প্রায় ৪৮২৭ কিলোমিটার পর্যন্ত ধ্বংসলীলা চালানো সম্ভব হবে। এমতাবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ অনেক সামরিক শক্তিধর দেশের বাংলাদেশের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রয়েছে।

৩.পানিসীমার অর্থনৈতিক গুরুত্ব (The economic importance of water borders):
FOW এর মতে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার মহীসোপানকে “স্বর্ণখনি” বলা হয়েছে। কারণ এখানে প্রচুর পরিমাণ মৎস্য সম্পদের সম্ভাবনা রয়েছে। এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৪৭৬ প্রজাতির মৎস্যসম্পদ রয়েছে যা ধরতে পারলে প্রতিবছর বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের সমান অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।

৪.পানিসীমার সামরিক গুরুত্ব (Military importance of Water boundary) :
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা একটি ত্রিভুজ আকৃতির সৃষ্টি করেছে। দক্ষিণ ভারত মহাসাগর একমাত্র দিয়াগো গার্সিয়া ছাড়া এর আশপাশে আর কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নেই। বাংলাদেশের পানিসীমার এই ত্রিভুজ এলাকার ওপর যে বৃহৎশক্তি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবে সে পাশের রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় পানিসীমার ওপরও নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবে। এ জন্যই সেন্টমার্টিন দ্বীপটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক প্রপঞ্চক যার ওপর যুক্তরাষ্ট্রসহ বহু দেশের লুলুপ দৃষ্টি রয়েছে।

৫.দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনৈতিক অবস্থান (Political position in South and Southeast Asia):
আঞ্চলিক সমঝোতা, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা প্রশ্নে এক রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এই বাস্তবতা থেকেই বাংলাদেশের নেতৃত্বে দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশ নিয়ে SAARC নামে একটি আঞ্চলিক রাষ্ট্রজোট গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে এটি একটি বড় বিজয়। এ ছাড়া ASEAN, সিয়াটো সেন্টো, BIMSTEC প্রভৃতি আঞ্চলিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক গোষ্ঠী দ্বারাও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বহুলাংশে প্রভাবিত।

৬.বৃহৎ শক্তিবর্গের স্বার্থের দ্বন্দ্ব (Conflict of interest of the great powers):
স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে মতাদর্শের ক্ষেত্রে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, তা বৃহৎ শক্তিবর্গের স্বার্থের টানাপড়েনেই সৃষ্ট। স্বাধীনতাযুদ্ধের শত্রুরা আজ বাংলাদেশের মিত্র (যেমন-ইউএসএ, চীন) এবং সাহায্যকারীরা দূরে সরে গেছে। অতীতের এবং বর্তমানে সরকারগুলোর পটপরিবর্তনের ফলে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে তা বৃহৎশক্তিগুলোর সম্প্রসারণবাদী নীতিরই সৃষ্ট।

৭.খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদের অবস্থা (Status of mineral and natural resources):
নদীবাহিত পললদ্বারা বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকা সৃষ্ট হলেও এ দেশের একটা বৃহৎ এলাকাজুড়ে রয়েছে প্রাচীন ভূভাগ, সে সকল এলাকাগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ, কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, ইউরেনিয়াম, মৃত্তিকা, পানিসম্পদসহ বহু প্রাকৃতিক সম্পদ।

এসব সম্পদের প্রতি রয়েছে বহৎ শক্তিবর্গের শকুনি দৃষ্টি। ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বাংলাদেশ সফরের সময় মৌলভীবাজারের ইউরেনিয়াম নিয়ে মন্তব্য করতে ভুল করেননি। প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লার মতো জ্বালানি শক্তির ওপর পাশের দেশসহ বহুদেশ মন্তব্য করেই চলেছে যা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নে প্রভাবিত করছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির পরাজয় এবং পরবর্তীতে বিশ্বব্যবস্থা সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ায় বিশ্ব রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নতুন মেরুকরণ শুরু হয়। নব্বই দশকের শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের পর চীন ধীরে ধীরে বর্তমান বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজকে প্রস্তুত করছে।

এমতাবস্থায় চীনকে যদি আগামী বিশ্বশক্তির কেন্দ্রবিন্দু বলে খ্যাত ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশিতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে হয় তাহলে সবচেয়ে যোগ্যতম স্থান হচ্ছে বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকা তথা বাংলাদেশ কেননা এখানে চীনের সাথে আছে জনসংখ্যার মধ্যে জাতিতাত্ত্বিক মিল এবং কম দূরত্ব।

এমতাবস্থায় চীন এই এলাকার ওপর প্রভাব বিস্তার করার জন্য বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র এটা কোন দিক থেকে গ্রহণ করবে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে বাংলাদেশের সরকারযন্ত্রের। সামান্য ভুলের কারণে হয়তো এই সম্ভাব্য এলাকাটি এক সময় সমগ্র জাতির জন্য দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

𝐏𝐫𝐞𝐩𝐚𝐫𝐞𝐝 𝐛𝐲
𝐀𝐁. 𝐑𝐚𝐳𝐮 𝐁𝐒𝐒(𝐏𝐨𝐥𝐢𝐭𝐢𝐜𝐚𝐥 𝐒𝐜𝐢𝐞𝐧𝐜𝐞) 𝐔𝐧𝐢𝐯𝐞𝐫𝐬𝐢𝐭𝐲 𝐎𝐟 𝐑𝐚𝐣𝐬𝐡𝐚𝐡𝐢

বিসিএস লিখিত প্রস্তুতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও ভূ রাজনৈতির গুরুত্ব আলোচনা ছাড়া আরও পড়ুনঃ

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন। আপডেট পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল যোগ দিতে পারেন। আমাদের সাইট থেকে কপি হয়না তাই পোস্টটি শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে রাখতে পারেন অথবা পিডিএফ আইকনে ক্লিক করে ডাউনলোড ও করে নিতে পারেন।