বাংলাদেশে F-commerce এর জনপ্রিয়তা ও চ্যালেঞ্জসমূহ

পেপার ক্লিপিং
Content Protection by DMCA.com

ফোকাস রাইটিং
বাংলাদেশে F-commerce এর জনপ্রিয়তা ও চ্যালেঞ্জসমূহ

বর্তমানে আমরা সকলেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে সংযুক্ত। সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাথে আমরা এমনভাবে প্রভাবিত হয়েছি যে কোনো নতুন খবর পেলেই আমরা তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করি। একটি রিপোর্টে দেখা গিয়েছে যে, আমরা প্রতিদিন ১৪৪ মিনিট বা ২ ঘন্টা ২৪ মিনিট করে সোশ্যাল মিডিয়াতে সময় ব্যয় করি।

সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের প্রতিদিনের জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে যেখানে আমরা দিনের অনেকটা সময় ব্যয় করি। আর এভাবেই সোশ্যাল মিডিয়া পণ্যের বিজ্ঞাপন এবং বিক্রয় করার জন্য নবীন এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য একটি আদর্শ মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কৌশলটিকেই E-Coomerce বলা হয়। বিভিন্ন ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া ই-কমার্সের অন্তর্ভুক্ত যেমন ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, পিন্টারেস্ট প্রভৃতি।

নিচের গ্রাফটি দেখে আমরা খুব সহজেই বোধগম্য হতে পারি যে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমের চেয়ে ফেসবুক অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য।

এই বিষয়টি বিশ্বের অন্য সকল দেশের জন্য প্রযোজ্য তবে সেক্ষেত্রে উপরের এই পাই চার্টের পরিসংখ্যানটা কিছুটা বদলাবে। সুতরাং আমরা দেখছি যে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার এর মধ্যে ফেসবুকের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি এবং এটাই একটি নতুন বিজনেস প্লাটফর্ম তৈরি করেছে যাকে আমরা বলছি F-commerce।

এটি এমন একটি মাধ্যম যেখানে অনলাইনে উদ্যোক্তারা তাদের কাস্টমারদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়াও ফেসবুকের বাইরে অন্য কোনো ই-কমার্স প্লাটফর্ম কে প্রমোট করে এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক আদান প্রদান করা যায়।

উদাহরণ:
চলুন আমরা একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করি। শামীম একজন কর্পোরেট এক্সিকিউটিভ যিনি প্রতিদিন খুব ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেন তার কাজের মধ্য দিয়ে। কোনো এক বৃহস্পতিবার বিকেলে শামীম’এর স্ত্রী উনাকে বাসার বাজার করার জন্য বললেন। পরদিন শুক্রবার রাতে উনাদের বাসায় কিছু গেস্ট আসবেন। মহাবিপদে পড়লেন শামীম।

একদিকে কাজ অন্যদিকে স্ত্রীর আদেশ – কোনটা উনি পালন করবেন? হঠাৎ করে শামীম’এর মনে পড়ল একটি ফেসবুক পেইজের কথা যেখানে অনলাইনে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা বেচা করা হয়। দেরি না করে শামীম তৎক্ষণাৎ ফেসবুকে লগইন করলেন, সাইটটিতে গেলেন, দরকারি জিনিসগুলোর একটা লিস্ট করলেন এবং অনলাইনে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ক্রয় করলেন।

সাইটটির ম্যানেজার তৎক্ষণাৎ তাকে ফোন করে এবং এসএমএস করে উনার অর্ডার কনফার্ম করলেন। আরও বলে দিলেন পরদিন সকালবেলা তার বাসার সামনে বাজারগুলো পৌঁছে যাবে। পুরো ব্যাপারটি ঘটলো 30 মিনিটের মধ্যে। পরদিন সকাল 9 টার মধ্যেই শামীমের বাসায় বাজারটি পৌঁছে গেল। শামীম অত্যন্ত খুশি হয়ে ফেসবুক পেজটিতে একটি পজিটিভ রিভিউ দিয়ে দিল।

এই ব্যাপারটি যদি 10 বছর আগে হতো তাহলে শামীমকে অবশ্যই কাজের শেষে রাতের বেলা বাজারে যেতে হতো। F-commerce পদ্ধতি ব্যবহার করে শামীম তার বাসায় বাজারগুলো সঠিক সময়ের মধ্যে পেয়ে গেলো।

বাংলাদেশে F Commerce এর জনপ্রিয়তার কারণঃ
বাংলাদেশে এফ কমার্স এর জনপ্রিয়তার নেপথ্যের কারণগুলো –

◾১) বাংলাদেশের 93% সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী ফেসবুক ব্যবহার করেন। তারমানে বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠীর একটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে যা F-commerce পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করে তুলেছে ।
◾২) সোশ্যাল মিডিয়া মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক ব্যবহার করা বেশ সহজ।
◾৩) নতুন উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রচারের জন্য ফেসবুক একটি আদর্শ মাধ্যম যাতে প্রায় বিনা খরচ এই পণ্যের প্রসার করা যায়।

◾৪) ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা যাদের ব্যবসায়িক পুঁজি কম তাদের জন্য ফেসবুক একটি উৎকৃষ্ট মাধ্যম।
◾৫) স্বল্প সময়ে ইন্টারনেট পরিসেবা বৃদ্ধি হওয়াতে ফেসবুকের প্রচার অনেক বেড়েছে।

◾৬) দেশের বেশিরভাগ মহিলা উদ্যোক্তাদের প্রচার এর প্রধান মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক অথবা F-commerce।
◾৭) ফেসবুকের মাধ্যমে একটি আদর্শ গ্রাহক সমাবেশ করানো যায়। যার কাছ থেকে আপনি সঠিক সেবাটি পেয়েছেন, আপনি তাঁর পণ্যকে গ্রহণ করেন এবং তার পণ্যের প্রচারে সহায়তা করেন।

F Commerce বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ
কিছু F-commerce বিষয়ক তথ্য বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নিচে তুলে ধরা হলো –

◾১) শুধুমাত্র ঢাকাতেই প্রায় 2 কোটি 20 লক্ষ সচল ফেসবুক ব্যবহারকারী রয়েছেন।
◾২) বাংলাদেশ ফেইসবুক এ দেশীয় ব্যবসায়িক বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩১২ কোটি টাকা।
◾৩) F – commerce সুবিধা গ্রহণকারীর মধ্যে ৭২ পার্সেন্ট পুরুষ।

◾৪) ৫০ পার্সেন্ট ফেসবুক পেইজের উদ্যোক্তা নারী জনগোষ্ঠী।
◾৫) বাংলাদেশের প্রায় ৩ লক্ষাধিক ফেসবুক পেইজ আছে।
◾৬) গড়ে ফেসবুক পেইজ থেকে উদ্যোক্তাদের মাসিক আয় ১০ হাজার টাকা থেকে এক লক্ষাধিক টাকা।

◾৭) বেশিরভাগ ফেসবুক পেজ ব্যবহারকারীর বয়স ১৮ থেকে ২৪ এর মধ্যে।
◾8) F – commerce এ একটি নতুন চাকরির সুযোগ ডিজিটাল মার্কেটিং এর উদ্ভাবন হয়েছে।

বাংলাদেশ F commerce প্রবৃদ্ধির চ্যালেঞ্জঃ

◾১) ফেসবুকের বেশিরভাগ ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা নিজস্ব কোন ট্রেড লাইসেন্স নেই। যে কারণে ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া তাদের জন্য দুষ্কর।
◾২) ব্যবসার জন্য উদ্যোক্তাদের যে কাঁচা মালের প্রয়োজন হয় সেই কাঁচামাল বেশিরভাগই ঢাকার বাইরে থেকে নিয়ে আসতে হয়। যে কারণে তাদের জন্য ব্যবসায় লাভের মুখ দেখা কষ্টকর।

◾৩) যেহেতু গ্রাহক পণ্য না দেখে অর্ডার করছেন তাই ফেসবুকে ব্যবসা পরিচালনা করতে হয় সততার মাধ্যমে। এর বিপরীতে গেলে ব্যবসা পরিচালনা করা খুবই কঠিন।
◾৪) একই ধরনের পণ্যের অনেক পেজ দেখা যায় ফেসবুকে যাতে প্রতিযোগিতা অনেক বেড়ে যায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি অন্যতম প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ফেসবুকের জনপ্রিয়তা অতুলনীয়। প্রতিবছরই এর ব্যবসায়িক প্রসার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তাই F – commerce বাংলাদেশের জন্য হতে পারে একটি আদর্শ পদ্ধতি। বিশেষত যারা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা আছেন তাদের জন্য এফ কমার্স একটি সহজ সহজ সমাধান ।

কিছুটা নৈরাশ্য জনক হলেও সত্যি এফ কমার্স এর এই পদ্ধতিটি এখনো সরকারি পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পায় নি। সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পদ্ধতিগত সহযোগিতা পাওয়া গেলে F-commerce হতে পারে একটি আদর্শ ব্যবসা পরিচালনের মাধ্যম এবং এর মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলা সম্ভব।

বাংলাদেশে F-commerce এর জনপ্রিয়তা ও চ্যালেঞ্জসমূহ ছাড়া আরোও পড়ুন-

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন। আমাদের সাইট থেকে কপি হয়না তাই পোস্টটি শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে রাখতে পারেন।