ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

64
চর্যাপদ : যেভাবে এবং যতটুকু পড়বেন
Content Protection by DMCA.com

ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ১০ই জুলাই ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার পেয়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯১০ সালে কলকাতা সিটি কলেজ থেকে সংস্কৃতে বি.এ. অনার্স পাস করেন। ১৯১২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ. ডিগ্রি লাভ করেন। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্যারিসের সোরবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাতত্ত্বে ডিপ্লোমা এবং ডি. লিট. লাভের গৌরব অর্জন করেন।

তিনি সুদীর্ঘ ত্রিশ বৎসরকাল বাংলাদেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক এবং অধ্যক্ষরূপে নিয়োজিত ছিলেন। অসামান্য প্রতিভাধর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন সুপণ্ডিত ও ভাষাবিদ। [১২তম বিসিএস প্রিলিমিনারি] তিনি ছিলেন মুক্তবুদ্ধির অধিকারী। প্রাচীন ভাষা ও সাহিত্য সম্পর্কে দুরূহ ও জটিল সমস্যার যুক্তিপূর্ণ ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণে তিনি অসামান্য পাণ্ডিত্যের পরিচয় দিয়েছেন।

বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত, বাংলা সাহিত্যের কথা (দুই খণ্ড) [৩৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি] এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ভাষা ও সাহিত্য, দীওয়ানে হাফিজ, রুবাইয়াত-ই-ওমর খৈয়াম, বিদ্যাপতি শতক তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। তাঁর অন্যতম কালজয়ী সম্পাদনা গ্রন্থ ‘বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’।

ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এমেরিটাস অধ্যাপক পদ লাভ করেন। একই বছর ফ্রান্স সরকার তাকে সম্মানজনক পদক নাইট অফ দি অর্ডারস অফ আর্টস অ্যান্ড লেটার্স দেয়। ঢাকা সংস্কৃত পরিষদ তাঁকে ‘বিদ্যাবাচস্পতি’ উপাধিতে ভূষিত করে।

পাকিস্তান আমলে তাকে ‘প্রাইড অফ পারফরমেন্স পদক’ ও মরণোত্তর হিলাল ই ইমতিয়াজ খেতাব প্রদান করা হয়। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশন্স তাঁকে সম্মানিত সদস্য (ফেলো) রূপে মনোনয়ন করে কিন্তু পাকিস্তান সরকারের অনুমতি না থাকায় তিনি তা গ্রহণ করেন নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে মরণোত্তর ‘ডি লিট’ উপাধি দেয়। ১৯৮০ সালে মরণোত্তর বাংলাদেশের স্বাধীনতা পদক দেওয়া হয়।

Buddhist mystic songs, oldest Bengali and other eastern vernaculars নামে চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের সম্পাদনা করেন। [৩৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি]

শিশু পত্রিকা ‘আঙুর’ তাঁরই সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া পাঠ্যপুস্তক অনুবাদ এবং নানা মৌলিক রচনায় তিনি তাঁর দক্ষতার পরিচয় রেখেছেন। ১৩ই জুলাই ১৯৬৯ সালে ঢাকায় মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ জীবনাবসান ঘটে।

ড:মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সাহিত্য ও রচনা থেকে যে প্রশ্নগুলো প্রায়ই আসেঃ-

০১। ‘বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত’কে রচনা করেন = ড: মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ।
০২। ড: মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত পত্রিকার নাম কি = আঙুর ।
০৩। ড: মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বড় পরিচয় কোনটি = ভাষাতত্ত্ববিদ ।
০৪। বহুভাষাবিদ পণ্ডিত বলতে কার নাম প্রথমে মনে আসে = ড: মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

০৫। ‘বাংলা সাহিত্যের কথা’গ্রন্থটি কার রচনা =ড: মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ।
০৬। বাংলা সাহিত্য সম্পর্কিত গবেষণার জন্য যার নাম এ দেশের সাহিত্যের ইতিহাসে অত্যুজ্বল হয়ে রয়েছে .. = ড: মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ।
০৭। ড: মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থের নাম – = বাংলা সাহিত্যের কথা।
০৮। আঞ্চলিক ভাষায় অভিধান সম্পাদনার জন্য ড: মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলা একাডেমীতে কোন সালে যোগদান করেন = ১৯৬০ সালে ।

০৯। বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশের আঞ্চলিক অভিধান কে সম্পাদনা করেন = ড: মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ।
১০। ড: মুহম্মদ শহীদুল্লাহ কোন সালে বাংলা পঞ্জিকা সংস্কার করেন = ১৯৬৩ সালে ।
১১। আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য: তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি’ । বক্তব্যটি কার = ড:মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ।
১২। ড: মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মৃত্যুদিবস কোনটি = ১৯৬৯ সালের ১৩ জুলাই ।
১৩। ড: মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সম্পাদনায় শিশু পত্রিকা = আঙুর ।

আরও পড়ুনঃ

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here